কিছু সংবাদ মাধ্যম আশংকা করেছিল । এমনকি বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালও বলেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্মানে আয়োচিত হিউস্টনে প্রবাসী ভারতীয়দের সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি সেদেশের রাজনৈতিক বাধ্য বাধকতার কারণেই । কারণ ২০২০ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে । আর এই নির্বাচনে যাতে ট্রাম্প আমেরিকায় বসাবসরত প্রবাসী ভারতীয়দের সমর্থন পান সেই উদ্দেশ্যে মোদী সভায় ট্রাম্প যাচ্ছেন । এটা আমাদের অনুমান ছিল মাত্র । কিন্ত সেই অনুমান যে একশো শতাংশ সঠিক তা ভাবা যায়নি । কিন্ত হল তাই ।
প্রবাসী ভারতীয়দের সভাটি মোদী নামে হলেও তাতে জয়ধ্বনি হল ট্রাম্পেরই । অব কী বার মোদী সরকার এই স্লোগানকে ; এবার তা উল্টে মোদী বললেন , অব কি বার ট্রাম্প সরকার । স্বাধীনতার ৭০ বছরের আমাদের দেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশেষ কোনো প্রার্থী প্রচার করেননি । এবার করলেন নরেন্দ্র মোদী । ৭০ বছরে মধ্যে তিনি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়ার কথা সভায় বললেন ।
‘হাউডি মোদী’র মঞ্চ কার্যত পরিণত হয় ট্রাম্পের আগাম নির্বাচনী প্রচারে। ট্রাম্পকে ‘ভারত-বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরে প্রশস্তির বৃষ্টি তো করলেনই মোদী। করমর্দন থেকে আলিঙ্গন, অনুষ্ঠানের শেষে হাত ধরে ঘুরে ঘুরে প্রায় ‘ভিকট্রি ল্যাপ’ নেওয়ার কায়দায় জনতার অভিবাদন গ্রহণ— উষ্ণতার প্রদর্শনীতে বাকি রইল না কিছুই। ট্রাম্প বক্তৃতা শুরু করার আগে ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন মোদী। সেখানে ট্রাম্পের মুখে ‘অব কি বার ট্রাম্প সরকার’ স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার-সুরও যেন বেঁধে দিয়ে গেলেন। ট্রাম্পও তাঁর বক্তব্যে ভারতীয়দের সমর্থন পাওয়ার সব রকম সুযোগটাই ব্যবহার করলেন । টেক্সাসে অনাবাসী ভারতীয়দের মঞ্চ থেকে ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টায় খামতি রাখলেন না।